যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের গ্যারান্টির নিশ্চয়তায় জলবায়ু অর্থায়ন বাড়াচ্ছে এডিবি

জলবায়ুসংক্রান্ত ঋণদান ৭২০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

জলবায়ুসংক্রান্ত ঋণদান ৭২০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংকটির এক নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এডিবির বিদ্যমান কিছু ঋণের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘সার্বভৌম গ্যারান্টি’ প্রদানে সম্মত হয়েছে। এতে তাদের পক্ষে জলবায়ুসংক্রান্ত ঋণ কার্যক্রম বাড়ানো সম্ভব হবে। খবর রয়টার্স।

এডিবি ২০১৯-৩০ সালের মধ্যে মোট ১০ হাজার কোটি ডলার জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি গত বছর মোট ৯৮০ কোটি ডলার ঋণ বিতরণ করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এডিবির বিদ্যমান ঋণের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত গ্যারান্টি প্রদান করবে। অন্যদিকে জাপান ৬০ কোটি ডলার গ্যারান্টি দেবে। এর মাধ্যমে জলবায়ুসংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য আরো বেশি ঋণ দিতে পারবে এডিবি। বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু অর্থায়নে নতুন এ কৌশল উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে।

এডিবির পার্টনার ফান্ডের পরিচালক জ্যাকব সোরেনসেন জানান, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এমডিবি) ঋণদানের ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ কাঠামো একটি চমৎকার উপায়। সাধারণ ঋণদানের ক্ষেত্রে নানা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এ কাঠামোয় এসব ঝামেলা এড়ানো যায়।

গত সপ্তাহে গ্যারান্টি প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়। তবে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বারা চুক্তিগুলো প্রভাবিত হবে কিনা, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এডিবির মুখপাত্র। সংস্থাটি বলছে, গ্যারান্টিগুলো থেকে পাওয়া অতিরিক্ত ঋণ দেয়ার সুযোগ আগামী পাঁচ বছরে কাজে লাগানো হবে। তবে গ্যারান্টির মেয়াদ থাকবে ২৫ বছর।

জ্যাকব সোরেনসেন জানান, পাকিস্তান এডিবির নতুন এ উদ্যোগের প্রথম সুবিধাভোগী হতে যাচ্ছে। দেশটির ভোজ্যতেল থেকে উড়োজাহাজের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের একটি প্রকল্পে এডিবি অর্থায়ন করতে পারে। প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় ৯ কোটি ডলারের প্রায় অর্ধেক এডিবির তহবিল থেকে দেয়া হবে। চুক্তিটি ২০ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর একটি গ্রুপের সঙ্গে মিলে গ্যারান্টি চুক্তিটি তৈরিতে তিন বছর সময় নিয়েছে এডিবি। তারা বিশ্বব্যাংক, ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই অন্য দেশগুলোও এ পদক্ষেপ অনুসরণ করবে। সোরেনসেন আরো বলেন, ‘‌আমরা বিভিন্ন এমডিবির সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেছি।’

এর আগে শিক্ষাসহ অন্যান্য খাতে ঋণদানের ক্ষেত্রে সার্বভৌম গ্যারান্টি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবারই প্রথম জলবায়ু অর্থায়নে এ ধরনের গ্যারান্টি ব্যবহার করা হলো।

সরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গ্যারান্টি প্রদান শুরু করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাংক তাদের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে জলবায়ু প্রকল্পের জন্য ঋণ ও বিনিয়োগ গ্যারান্টি প্রদানে একটি প্লাটফর্ম চালু করেছে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ গত মাসে ওয়াশিংটনে জানান, ২০২৩ সালে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এর বার্ষিক পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া ও দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও উষ্ণ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হওয়া জাতিসংঘের কপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। তবে ধনী দেশগুলো আশা করছে, শুধু তাদের অনুদানের ওপর নির্ভর না করে উন্নয়ন ব্যাংক ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও জলবায়ু অর্থায়নে এগিয়ে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের ফলে বাকুর জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেননা ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে আলোচনায় বাস্তব ও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ইউরোপ ও চীনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে আলোচকরা জানিয়েছেন।

আরও